শেষ ট্রেনটা যেদিন থামেনি

Rahat

 


রাত প্রায় ১২টা।

স্টেশনটা অদ্ভুত রকম চুপচাপ।

এমন না যে এই স্টেশন কখনো ব্যস্ত ছিল না…

কিন্তু আজকের নীরবতা অন্যরকম।

রাহাত বেঞ্চে বসে আছে।

শেষ ট্রেনটার জন্য অপেক্ষা করছে।

লোকজন নেই বললেই চলে।

দূরে একটা বাতি টিমটিম করে জ্বলছে।

🚉 অদ্ভুত ঘোষণা

হঠাৎ লাউডস্পিকারে একটা শব্দ ভেসে এল—

“শেষ ট্রেন কিছুক্ষণের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করবে…”

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো—

এই স্টেশনে অনেকদিন ধরেই রাতে কোনো ট্রেন থামে না।

রাহাত একটু অবাক হলো,

তবুও কিছু বললো না।

🌫️ ট্রেনের আগমন

দূরে হঠাৎ একটা আলো দেখা গেল।

ধীরে ধীরে সেটা বড় হতে লাগলো।

একটা ট্রেন…

কিন্তু খুব অদ্ভুত লাগছে।

কোনো শব্দ নেই।

চাকার শব্দ নেই, হুইসেল নেই—

শুধু নীরবতা।

ট্রেনটা প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ালো।

দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল।

👤 অচেনা যাত্রীরা

রাহাত ভেতরে তাকালো।

কিছু মানুষ বসে আছে—

কিন্তু তারা কেউ নড়ছে না।

সবাই স্থির।

মাথা নিচু করে বসে আছে।

কারো মুখ দেখা যাচ্ছে না।

হঠাৎ একজন ধীরে ধীরে মাথা তুললো।

তার চোখ নেই।

শুধু ফাঁকা কালো গর্ত।

🧠 সিদ্ধান্ত

রাহাত পিছিয়ে গেল।

তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে।

কিছু একটা ভুল হচ্ছে।

ঠিক তখনই আবার সেই লাউডস্পিকারের শব্দ—

“যাত্রীরা দ্রুত ট্রেনে উঠুন…”

কিন্তু এবার কণ্ঠটা আগের মতো না।

এবার যেন একটু ভাঙা, একটু ভারী…

👣 শেষ মুহূর্ত

ট্রেনের ভেতরের সবাই একসাথে রাহাতের দিকে তাকালো।

ধীরে ধীরে তারা দাঁড়াতে শুরু করলো।

এক পা…

দুই পা…

তারা দরজার দিকে এগোচ্ছে।

রাহাত আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ায়নি।

সে দৌড় দিল।

পেছনে না তাকিয়েই দৌড়াতে লাগলো।

🌑 পরের দিন

পরদিন সকালে,

লোকজন শুনলো—

রাহাতকে স্টেশনের পাশের লাইনের ধারে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সে বেঁচে আছে,

কিন্তু একটাই কথা বারবার বলছে—

“শেষ ট্রেনে উঠিস না…

ওরা যাত্রী না…”

🔍 সত্যটা কী?

স্টেশনের পুরোনো কর্মচারীরা বলে—

অনেক বছর আগে,

একটা ট্রেন এখানে দুর্ঘটনায় পড়েছিল।

সেই ট্রেনের কেউই বেঁচে ছিল না।

তারপর থেকে মাঝে মাঝে…

রাতে একটা ট্রেন আসে—

যেটা কখনো সময়মতো আসে না,

আর কখনো কাউকে নামায় না।

✨ উপসংহার

সব ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আসে না।

কিছু ট্রেন শুধু নিয়ে যায়—

যেখানে থেকে আর ফেরা যায় না। 🚆🌑

XploRahat

Thank you for visiting our website. Stay connected with us!