স্কুলটা অনেক পুরোনো।
দিনে সবকিছু স্বাভাবিক—ছাত্রদের হৈচৈ, শিক্ষকদের ব্যস্ততা, ঘণ্টার শব্দ।
কিন্তু একটা ক্লাসরুম আছে…
যেটা নিয়ে সবাই ফিসফিস করে।
ক্লাসরুম ১৩।
🏫 নিষিদ্ধ দরজা
স্কুলের দারোয়ান সবসময় বলে—
“ওই রুমটা বিকেলের পর খোলা যাবে না।”
কারণ জিজ্ঞেস করলে সে শুধু চুপ করে থাকে।
রাহাত এসব শুনে হেসে ফেলতো।
তার কাছে এসব ছিল শুধু ভয় দেখানোর গল্প।
একদিন সে ঠিক করলো—
আজ সে ক্লাসরুম ১৩-তে ঢুকবেই।
🌆 সন্ধ্যার পর
স্কুল ছুটি হয়ে গেছে।
চারপাশ ফাঁকা।
রাহাত ধীরে ধীরে করিডোর দিয়ে হাঁটছে।
তার পায়ের শব্দই পুরো জায়গায় প্রতিধ্বনি হচ্ছে।
দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো—
“Class 13” লেখা ফিকে হয়ে গেছে।
সে দরজাটা ঠেলে খুললো।
🌑 অদ্ভুত নীরবতা
ভেতরে ঢুকতেই একটা ঠান্ডা বাতাস লাগলো।
সব বেঞ্চ ঠিকঠাক আছে,
বোর্ড পরিষ্কার।
কিন্তু…
কিছু একটা অস্বাভাবিক।
রাহাত ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো।
ঠিক তখনই—
টং!
কোথাও থেকে একটা ঘণ্টার শব্দ এলো।
🧾 বোর্ডে লেখা
রাহাত বোর্ডের দিকে তাকালো।
একটা চক নিজে নিজে নড়ছে…
ধীরে ধীরে বোর্ডে লেখা হচ্ছে—
“তুমি দেরি করে ফেলেছো…”
রাহাতের গলা শুকিয়ে গেল।
👤 খালি ক্লাস না
হঠাৎ সে খেয়াল করলো—
সব বেঞ্চ খালি না।
কিছু বেঞ্চে ছায়ার মতো কিছু বসে আছে।
তারা স্থির,
কিন্তু সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে।
🧠 শেষ ক্লাস
হঠাৎ সামনে শিক্ষক টেবিলের কাছে একটা ছায়া দাঁড়ালো।
ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো—
একজন শিক্ষক।
কিন্তু তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।
সে ধীরে ধীরে বললো—
“ক্লাস শুরু হয়েছে… বসো।”
😨 বের হওয়ার চেষ্টা
রাহাত দৌড়ে দরজার দিকে গেল।
দরজা খুলছে না।
পেছন থেকে সেই কণ্ঠ—
“এখন কেউ বের হয় না…”
🌑 পরের দিন
পরদিন সকালে,
স্কুল খোলার পর—
ক্লাসরুম ১৩-এর দরজা খোলা পাওয়া গেল।
ভেতরে সবকিছু স্বাভাবিক।
শুধু বোর্ডে একটা লেখা—
“নতুন একজন এসেছে…”
রাহাত আর কখনো বাড়ি ফেরেনি।
🔍 গুজব
লোকজন বলে—
অনেক বছর আগে,
এই ক্লাসরুমে একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল।
সেই দিন থেকে…
কিছু ক্লাস কখনো শেষ হয় না।
✨ উপসংহার
সব ক্লাস শেখার জন্য হয় না।
কিছু ক্লাস শুধু ধরে রাখার জন্য হয়…
যেখান থেকে ছুটি মেলে না। 🏫🌑

