রাত তখন প্রায় ১টা।
অফিস বিল্ডিং প্রায় ফাঁকা।
সবাই চলে গেছে অনেক আগেই…
শুধু একজন এখনো কাজ শেষ করে নামার জন্য প্রস্তুত।
সিঁড়ি দিয়ে নামার বদলে—
সে লিফট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিল।
ভুল সিদ্ধান্ত।
🛗 অদ্ভুত লিফট
লিফটের সামনে গিয়ে বাটন চাপা হলো।
কয়েক সেকেন্ড পর—
ডিং!
দরজা খুলে গেল।
ভেতরে কেউ নেই।
সে ঢুকে “G” বাটন চাপলো।
দরজা বন্ধ হলো…
⏳ থেমে যাওয়া
লিফট নামতে শুরু করলো।
কিন্তু হঠাৎ—
ঝটকা দিয়ে থেমে গেল।
লাইট একবার নিভে আবার জ্বলে উঠলো।
ডিসপ্লেতে দেখা যাচ্ছে—
Between 7 & 6
😨 অস্বাভাবিক শব্দ
হঠাৎ একটা শব্দ—
ধীরে ধীরে…
কেউ যেন দেয়ালের ওপাশে নখ দিয়ে ঘষছে।
খররর… খররর…
সে চারদিকে তাকালো।
কেউ নেই।
👁️ আয়নার রহস্য
লিফটের ভেতরে একটা আয়না ছিল।
সে নিজের দিকে তাকালো—
সব ঠিক আছে…
কিন্তু…
তার পেছনে—
আরেকটা ছায়া দাঁড়িয়ে।
🧠 ঘুরে তাকানো
সে দ্রুত পেছনে তাকালো—
কেউ নেই।
আবার আয়নায় তাকাতেই—
ছায়াটা আরও কাছে।
🚪 দরজা খুললো
হঠাৎ—
ডিং!
লিফটের দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।
কিন্তু সামনে কোনো ফ্লোর না…
একটা অন্ধকার করিডোর।
যেখানে কোনো আলো নেই।
👣 ডাকা
ওপাশ থেকে একটা কণ্ঠ—
“এদিকে আসো…”
গলার স্বরটা খুব পরিচিত লাগছে।
ঠিক নিজের মতো।
😱 শেষ সিদ্ধান্ত
সে বুঝতে পারলো—
এটা কোনো সাধারণ ঘটনা না।
সে পিছিয়ে গিয়ে লিফটের ভেতরেই দাঁড়িয়ে রইলো।
দরজা ধীরে ধীরে আবার বন্ধ হয়ে গেল।
🌑 পরের দিন
পরদিন সকালে,
বিল্ডিংয়ের সিকিউরিটি রিপোর্টে দেখা গেল—
লিফট পুরো রাত বন্ধ ছিল।
কোনো মুভমেন্ট রেকর্ড হয়নি।
কিন্তু CCTV ফুটেজে—
একটা অদ্ভুত জিনিস দেখা যায়—
লিফটের ভেতরে একজন দাঁড়িয়ে আছে…
আর তার পেছনে—
আরেকজন।
সেই রাতের পর—
সবকিছু বদলে গেছে।
বাইরে থেকে দেখলে সব ঠিকঠাক।
অফিস চলছে, মানুষ আসছে-যাচ্ছে…
কিন্তু একজন জানে—
ওই লিফটটা এখন আর আগের মতো নেই।
🎥 CCTV-এর ভয়ংকর ফুটেজ
সিকিউরিটি রুমে বসে ভিডিওটা আবার দেখা হলো।
স্ক্রিনে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে—
লিফটের ভেতরে একজন দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর—
পেছনে একটা ছায়া ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে।
তারপর…
সে ছায়াটা মাথা কাত করে ক্যামেরার দিকে তাকায়।
যেন সে জানে—
কেউ তাকে দেখছে।
🧠 অদ্ভুত পরিবর্তন
পরদিন অফিসে ঢুকে একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করা হলো—
লিফটের ডিসপ্লেতে মাঝে মাঝে লেখা ভেসে উঠছে—
“7.5”
কিন্তু…
এই বিল্ডিংয়ে তো এমন কোনো ফ্লোর নেই!
🛗 লিফট আবার ডাকছে
একদিন বিকেলে—
লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়
নিজে থেকেই দরজা খুলে গেল।
ভেতরে কেউ নেই।
কিন্তু ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস আসছে।
ডিসপ্লেতে আবার সেই লেখা—
7.5
😨 অজানা ফ্লোর
কৌতূহল আর ভয়—দুটোই কাজ করছিল।
শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—
আজ দেখা হবে, “৭.৫” ফ্লোরটা কী।
লিফটে ঢুকে বাটন চাপা হলো।
লিফট ধীরে ধীরে উঠতে লাগলো…
৬… ৭…
তারপর—
7.5
লিফট থেমে গেল।
🚪 দরজার ওপারে
দরজা খুললো…
সামনে সেই একই অন্ধকার করিডোর।
কিন্তু এবার—
একটা পার্থক্য আছে।
দেয়ালের দুই পাশে অনেক দরজা।
সব দরজার ওপর নাম লেখা।
👁️ নিজের নাম
ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে একটা দরজার সামনে দাঁড়ানো হলো।
দরজার ওপর লেখা—
নিজের নাম।
হাতটা কাঁপছিল…
দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
😱 ভেতরের দৃশ্য
ভেতরে ঢুকেই শরীর জমে গেল।
ঘরের ভেতরে—
একজন দাঁড়িয়ে আছে।
ঠিক নিজের মতো।
একই মুখ, একই চোখ…
কিন্তু তার চোখে কোনো জীবন নেই।
🧠 ভয়ংকর কথা
সে ধীরে ধীরে বললো—
“তুই দেরি করে ফেলেছিস…”
🌑 পরের দিন
পরদিন সকালে—
সবকিছু আবার স্বাভাবিক।
কেউ কিছু জানে না।
শুধু একটা অদ্ভুত ব্যাপার—
লিফটে এখন মাঝে মাঝে
একটা অতিরিক্ত ছায়া দেখা যায়।
এরপর আর কিছু আগের মতো ছিল না।
অফিসে সবাই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল…
কিন্তু একজন জানতো—
ওই লিফটটা এখন একটা দরজা।
একটা অন্য জায়গার দরজা।
🛗 ৭.৫ ফ্লোরের সত্য
অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুরোনো নথি পাওয়া গেল।
এই বিল্ডিং যখন বানানো হচ্ছিল—
একটা ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে।
৭ আর ৮ তলার মাঝখানে
কিছু শ্রমিক লিফটের ভেতরে আটকে মারা যায়।
তারপর থেকেই—
৭.৫ ফ্লোরটা “নেই” বলে ধরা হয়।
কিন্তু আসলে…
ওটা কোথাও যায়নি।
👁️ যারা ঢোকে
যে কেউ যদি ভুল করে সেই ফ্লোরে যায়—
সে একা ফিরে আসে না।
অথবা…
সে আদৌ ফিরে আসে না।
🧠 শেষবার
সবকিছু জানার পরও—
একটা জিনিস পরিষ্কার ছিল না।
“ওটা” কী চায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই—
শেষবারের মতো লিফটে ওঠা হলো।
⏳ আবার ৭.৫
লিফট ধীরে ধীরে উঠতে লাগলো।
৬… ৭…
তারপর—
7.5
ডিং!
দরজা খুললো।
🚪 শেষ দরজা
সেই একই করিডোর।
কিন্তু এবার—
সব দরজা খোলা।
ভেতর থেকে ফিসফিস শব্দ আসছে।
শত শত কণ্ঠ—
“এসো…”
😨 মুখোমুখি
করিডোরের শেষে—
একটা বড় দরজা।
ওটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে—
নিজেই।
কিন্তু এবার একা না।
তার পেছনে আরও অনেক “সে” দাঁড়িয়ে।
সবাই একই রকম।
সবাই তাকিয়ে আছে।
😈 আসল খেলা
একজন সামনে এসে বললো—
“আমরা আটকে আছি…
বের হতে হলে জায়গা লাগবে।”
🧠 ভয়ংকর উপলব্ধি
সবকিছু পরিষ্কার—
এটা কোনো ভূত না।
এটা একটা জায়গা…
যেখানে মানুষ কপি হয়ে যায়।
আর একসময়—
কপিটাই আসল হয়ে যায়।
🌑 শেষ সিদ্ধান্ত
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে—
একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ফিরে যাওয়া…
না কি ভেতরে যাওয়া।
কিন্তু—
হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে দেখা গেল—
লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে।
ফিরে যাওয়ার রাস্তা নেই।
🌘 পরের দিন
পরদিন অফিসে—
সবকিছু আগের মতোই চলছে।
একজন নতুন কর্মী এসেছে।
সবাই বলে—
“একদম চুপচাপ, নিজের মতো থাকে।”
কিন্তু একটা জিনিস অদ্ভুত—
সে যখন লিফটে দাঁড়ায়…
তার ছায়া—
একটা না।
অনেকগুলো।
✨ উপসংহার
সব লিফট শুধু ফ্লোরে নিয়ে যায় না।
কিছু লিফট নিয়ে যায়—
এমন জায়গায়…
যেখান থেকে ফিরে এলেও,
তুমি আর আগের মতো থাকো না। 🛗🌑👁️
